Editors Desk | KICI TV News Bengali
রাতে দেখা স্বপ্ন ঘুম ভাঙার পরেও স্পষ্টভাবে মনে থাকে? যদি আপনার উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আপনি একেবারে বিরল নন, তবে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে পারেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, নিয়মিত স্বপ্ন মনে রাখতে পারা মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী, ঘুমের ধরন এবং মানসিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
গবেষণায় ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সী ২০০-রও বেশি মানুষের ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা টানা ১৫ দিন প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তাঁদের স্বপ্ন লিখে রাখেন। পাশাপাশি গবেষকরা তাঁদের ঘুমের ধরন, মানসিক অবস্থা এবং জ্ঞানীয় আচরণ বিশ্লেষণ করেন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, যাঁদের স্বপ্ন সম্পর্কে আগ্রহ বেশি, যাঁদের মন প্রায়ই নানা চিন্তায় ঘোরাফেরা করে এবং যাঁদের ঘুম মাঝেমধ্যে ভেঙে যায়, তাঁদের স্বপ্ন মনে রাখার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় প্রত্যেক মানুষই রাতে একাধিকবার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘুম থেকে ওঠার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই স্মৃতি মুছে যায়। কারণ জেগে ওঠার পর মস্তিষ্ক দ্রুত বাস্তব জীবনের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ শুরু করে, ফলে স্বপ্নের স্মৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাঁদের কল্পনাশক্তি বেশি, নতুন বিষয় জানার আগ্রহ রয়েছে এবং সৃজনশীলতার মাত্রা তুলনামূলক বেশি, তাঁদের মধ্যে স্বপ্ন মনে রাখার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এটি কোনো নিয়ম নয় এবং সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্যও নয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, স্বপ্ন মনে রাখতে পারা মানেই ভালো স্মৃতিশক্তি বা বেশি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়। বরং এটি নির্ভর করে ঘুমের গুণগত মান, ঘুম ভাঙার সময় মস্তিষ্কের অবস্থা এবং স্বপ্ন মনে করার অভ্যাসের ওপর।
গবেষণায় ঋতু পরিবর্তনেরও কিছু প্রভাব লক্ষ্য করা হয়েছে। শীতকালে অনেকেই তুলনামূলকভাবে কম স্বপ্ন মনে রাখতে পেরেছেন, অন্যদিকে বসন্তকালে সেই প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। যদিও এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্বপ্ন মনে রাখতে চাইলে ঘুম থেকে উঠেই কয়েক মিনিট শান্তভাবে শুয়ে স্বপ্নটি মনে করার চেষ্টা করুন। এরপর একটি ডায়েরি বা মোবাইল ফোনে লিখে রাখুন। নিয়মিত এই অভ্যাস করলে ধীরে ধীরে স্বপ্ন মনে রাখার ক্ষমতা বাড়তে পারে।
তাই আপনার যদি প্রায়ই রাতের স্বপ্ন মনে থাকে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। গবেষণা বলছে, এটি আপনার মস্তিষ্কের কিছু স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এটিকে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা বা অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ হিসেবে দেখার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং এটি মানুষের ঘুম, স্মৃতি এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যপ্রণালীরই একটি আকর্ষণীয় দিক।